বিশ্বকাপের এক বিস্মৃত অধ্যায়/যখন টানা তিনটি আসরে অংশই নেয়নি আর্জেন্টিনা

ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল শক্তি আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে তারা আবারও শিরোপার খুব কাছে। অথচ ফুটবলের এই পরাশক্তির ইতিহাসের পাতায় এমন এক সময় ছিল, যখন টানা তিনটি আসরে বিশ্বকাপ মঞ্চ থেকে অদৃশ্য ছিল আলবিসেলেস্তেরা। ফিফার সঙ্গে বিরোধ, আয়োজক নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ এবং দেশের ফুটবল প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে এক দীর্ঘ সময় বিশ্বকাপের মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল তারা।
শুরুর সাফল্য ও পরবর্তী স্থবিরতা
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা। যদিও শিরোপা জিততে পারেনি, তবে ততদিনে তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের পরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরে যাওয়ার গল্প।
কেন দূরে ছিল আর্জেন্টিনা?
আর্জেন্টিনার এই টানা অনুপস্থিতির পেছনে ছিল একাধিক জটিল কারণ:
খেলোয়াড় ছাড়ার সংকট: ১৯৩১ সালে আর্জেন্টিনায় পেশাদার লিগ চালুর পর ক্লাবগুলো জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৩৪ বিশ্বকাপে পেশাদারদের বদলে মূলত অপেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি দল পাঠানো হয়েছিল, যারা প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেয়।
আয়োজক বিতর্ক: ১৯৩৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বকাপের আয়োজক হতে চেয়েছিল। কিন্তু ফিফা ফ্রান্সকে বেছে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ আর্জেন্টিনা এই আসর বয়কট করে। একই কারণে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েও সেই বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: ১৯৫০ এবং ১৯৫৪ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে ছিল ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ফুটবল প্রশাসনের সংকট। এছাড়া তৎকালীন সময়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলে বড় ধরনের খেলোয়াড় ধর্মঘটও সৃষ্টি হয়েছিল।
তারকানির্ভর লিগের ভাঙন
সেই সময় আর্জেন্টিনার ফুটবল কাঠামো যখন নড়বড়ে, তখন কলম্বিয়ার বিখ্যাত ‘এল দোরাদো’ যুগের সূচনা হয়। বেশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধার লোভে বহু তারকা আর্জেন্টাইন ফুটবলার কলম্বিয়ায় পাড়ি জমান। যার ফলে কিংবদন্তি আলফ্রেডো দি স্টেফানোর মতো তারকারা বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফেরা
টানা অনুপস্থিতির পর ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপে ফিরে আসে আর্জেন্টিনা। তবে ততদিনে দেশের ফুটবলের প্রথম সোনালি প্রজন্ম ভেঙে গেছে এবং বিশ্ব ফুটবলের সমীকরণও বদলে গেছে।
ইতিহাসের সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ আর্জেন্টিনা বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে। দীর্ঘ ১৯ বছর বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে দূরে থাকার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাই হয়তো আজকের আর্জেন্টিনাকে এতটা লড়াকু এবং সফল করে তুলেছে। আজ যেখানে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে তারা শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে, সেখানে তাদের ইতিহাসের এই অজানা অধ্যায়টি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে।
জেএস

স্পোর্টস ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।











