ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল মঞ্চে এবার এক অদ্ভুত সমীকরণ। একদিকে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও ইয়ামালের প্রায় দুই দশক আগের একটি ছবি আবারও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, তরুণ মেসি একটি নীল প্লাস্টিকের টাবে শিশু ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন। ছবিটি সত্য কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। এবার সেই কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে ইউনিসেফ আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

ইউনিসেফের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

নিজেদের ফেসবুক পেজে ইউনিসেফ জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, আপনারা যে ছবিগুলো দেখেছেন, সেগুলো সত্যি।’ সংস্থাটি জানায়, ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০০৭ সালে। তখন মেসির বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামাল ছিলেন মাত্র পাঁচ মাসের শিশু। বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডার তৈরির ফটোশুটে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি লেন্সবন্দি করেছিলেন আলোকচিত্রী হোয়ান মনফোর্ট। সেই প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়েই মেসির সঙ্গে ছবিতে অংশ নিয়েছিলেন ইয়ামাল ও তার মা শেইলা এবানা।

এক ফ্রেমে দুই প্রজন্ম

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর সেই ছবি এখন বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই গত ২০২৪ সালে ছবিটি প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘দুই কিংবদন্তির শুরু।’ বর্তমানে সেই শিশু ইয়ামাল এখন স্পেনের অন্যতম বড় তারকা। আর মেসি বরাবরের মতোই ফুটবলের বরপুত্র। ইউনিসেফের দুই শুভেচ্ছাদূত এবার দাঁড়িয়েছেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চের দুই প্রান্তে। মাঠে তাদের লড়াই এখন লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।

ফাইনালের অপেক্ষায় বিশ্ব

১৯ বছর আগে ইউনিসেফের একটি দাতব্য ফটোশুটে এক ফ্রেমে থাকা দুজন এখন বিশ্বকাপের ফাইনালের প্রতিপক্ষ। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আগামী সোমবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামবে স্পেন। ফুটবলের এমন রূপকথার গল্প আগে কখনো দেখা যায়নি। মেসির কোলে বেড়ে ওঠা সেই শিশুই কি আজ মেসিকে হারিয়ে নিজের রাজত্ব কায়েম করবে, নাকি মেসি নিজের শেষ বিশ্বকাপে আরও একবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরবেন—সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই এখন সারা বিশ্ব।

জেএস