৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান: টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোয় মিসর

ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি মিসর। সাতবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব থাকলেও, দীর্ঘ ৯২ বছর ধরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় অধরাই ছিল তাদের জন্য। তবে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার নতুন ইতিহাস গড়ল মোহামেদ সালাহর দল। টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিসর।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে সালাহর দল। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইমান আশুরের দর্শনীয় এক হেডে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন। তবে ৫৫ মিনিটে মিসরীয় ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির ভুলে এক আত্মঘাতী গোল বসে পড়লে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময়ের ১২০ মিনিট পর্যন্ত ১-১ সমতা বজায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই চাপে ছিল। তাদের প্রথম শট নেওয়া হ্যারি শুটার বল বারের ওপর দিয়ে বাইরে মারলে চাপে পড়ে সকারুজরা। এরপর চতুর্থ শট নেওয়া লুকাস হেরিংটনও গোল করতে ব্যর্থ হন। বিপরীতে, মিসরের মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহামেদ সালাহ ও আবদেল মাজিদ—চারজনই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান। ফলে ৪-২ ব্যবধানের জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত হয় মিসরের। বিশেষ করে সালাহর বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ চিপ শট দর্শকদের বিমোহিত করে।
চোট থেকে ফিরেও এদিন সালাহ ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল। পুরো ম্যাচজুড়ে সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। দলের ঐতিহাসিক জয়ের পর গ্যালারিভর্তি ভক্তদের সামনে ফারাওদের মুকুট মাথায় দিয়ে উল্লাসে মাতেন এই লিভারপুল তারকা।
এর আগে ১৯৩৪ বিশ্বকাপে প্রথমবার সরাসরি নকআউটে খেললেও হাঙ্গেরির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল মিসরকে। চলতি বিশ্বকাপে এক জয় ও দুই ড্র নিয়ে নকআউটে আসা সালাহর দল এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল।
আগামী ৭ জুলাই আটালান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে মাঠে নামবে মিসর। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়বে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দে। এখন দেখার বিষয়, ইতিহাস গড়ার এই ছন্দ সালাহরা শেষ ষোলোর ম্যাচেও ধরে রাখতে পারে কি না।
জেএস

স্পোর্টস ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






