বঞ্চিত ১৫০ সামরিক কর্মকর্তার জন্য সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চনা, বৈষম্য ও প্রতিহিংসার শিকার হওয়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (১ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে এই বিষয়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির পূর্বের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিজীবনে বৈষম্য, বঞ্চনা ও প্রতিহিংসার শিকার কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুবিধাপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ স্বাভাবিক অবসর, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর অথবা পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা, পেনশনসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাও প্রদান করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার ভিত্তিতে তা স্বাভাবিক অবসর হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা সংশোধিত অবসরের তারিখ পর্যন্ত উচ্চতর পদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বকেয়া হিসেবে পাবেন।
কয়েকজন কর্মকর্তার জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধাও অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেউ এককালীন ৫০ লাখ টাকা এবং কেউ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা পাবেন। এছাড়া বয়স ও যোগ্যতা বিবেচনায় কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগ রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রণালয় ও তিন বাহিনীর সদর দপ্তর পৃথকভাবে কমিটি ও পর্ষদ গঠন করে। পরে ২০২৬ সালের ৩ মে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এসব সুপারিশ বিস্তারিত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মতামত দেয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের পেশাগত মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার পুনর্বহালের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউ

ডেসটিনি ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।






