জর্ডানে ইরানি হামলা/২ মার্কিন সেনা নিহত, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থানে ইরান কর্তৃক পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুইজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংঘটিত এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, গত শুক্রবার জর্ডানে মার্কিন ও তার মিত্র বাহিনীর ওপর ইরান ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই হামলায় চারজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন ছোট-বড় আঘাত পেয়েছেন। নিহতদের পরিচয় তাদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের 'বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই আত্মত্যাগ মার্কিন বাহিনীর সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শনিবার ভোরে জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। যদিও জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশসীমায় ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে এবং এতে তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানকে লক্ষ্য করে জোরালো বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। এটি ছিল ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের টানা অষ্টম রাতের মতো বিমান হামলা। মার্কিন সেন্টকমের মতে, এই অভিযানের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।
প্রায় এক মাস আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ায় এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে এবং জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত চুক্তির কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। তিনি মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরান খুব শীঘ্রই ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের হতাহতের ঘটনা নিয়ে চলমান সংঘাতে মোট মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
জেএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










