ইরানে মার্কিন হামলায় ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ, পূর্ণ যুদ্ধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে টানা সাত দিন ধরে অব্যাহত মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে একটি পানি শোধনাগারে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ১০ হাজার বাসিন্দার সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের সঙ্গে আলাপকালে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির সিইও হামজেহ পুর জানান, মার্কিন হামলায় সমুদ্র থেকে পানি তোলার একটি পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে আশপাশের ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন। হামজেহ পুর এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন অভিযানের জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এ ঘটনায় কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্রে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বেশ কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং পরিষেবার প্রভাব সীমিত রাখতে জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করতে টানা ৭ রাত ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান আর পাল্টা হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামবে। সেক্ষেত্রে উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই আর সুরক্ষিত থাকবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই দেশের সামরিক উত্তজনা এখন আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










