যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে লাগাতার চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি কার্যত ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ও দেশটির সুপ্রিম লিডারের সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সমঝোতা বাতিলের কারণ

মোহসেন রেজাই সমঝোতা স্মারকটি অকার্যকর হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পদক্ষেপকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বৈধ পথের পাশাপাশি অবৈধ বিকল্প রুট তৈরি করা, ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালানো এবং অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত না করা—এসবই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতা লঙ্ঘনের স্পষ্ট প্রমাণ।

রেজাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল হিসেবেই এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল, যাতে ইরানকে পিছু হটতে বাধ্য করা যায়। ‘যুদ্ধ ও আলোচনার নীতি’র সমাপ্তিইসলামাবাদে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তার কঠোর সমালোচনা করেছেন এই সামরিক উপদেষ্টা।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে যুদ্ধ ও আলোচনার যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা এখন শেষ হয়েছে। মোহসেন রেজাই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তবে ইরান আর কেবল পালটা আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই সংঘাত যদি আরও দুই-তিন দিন চলতে থাকে, তবে ইরান একটি "আক্রমণাত্মক ও ধ্বংসাত্মক" পর্যায়ে প্রবেশ করবে। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘাঁটি বা বাহিনীই আর নিরাপদ থাকবে না।

উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা হ্রাস এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পালটা হামলার কারণে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরানও এর কড়া জবাব দিচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলকে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জেএস