ইরানজুড়ে মার্কিন বিমান হামলা, পালটা আঘাতে উত্তপ্ত পারস্য উপসাগর

ছবি: সংগৃহীত
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমোজগানসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে মার্কিন বিমান হামলা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই হামলায় হরমোজগানে অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
হামলার পরিধি ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রতিবেদনে জানা গেছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো শুধুমাত্র হরমোজগান প্রদেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় লার, আহভাজ, সিরিক, বুশেহর, বন্দর আব্বাস ও দারাব শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হরমোজগানের উপ-গভর্নর জানিয়েছেন, মার্কিন হামলায় প্রদেশের দুটি প্রধান সেতু ও একটি টানেল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
পালটা হামলার দাবি আইআরজিসির
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পালটা সামরিক অভিযানের দাবি করেছে। আইআরজিসির তথ্যমতে:
ড্রোন ভূপাতিত: বুশেহরের আকাশে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন সনাক্তের পর ইরানের নতুন ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটিকে ভূপাতিত করা হয়েছে।
যুদ্ধজাহাজে হামলা: ইরান নৌবাহিনী দাবি করেছে, ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে উপকূল থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বাহরাইন ঘাঁটি ও ট্যাংকার আটক: বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছে আইআরজিসি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জোরপূর্বক অতিক্রমের চেষ্টাকারী চারটি সন্দেহভাজন জাহাজকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানের মাধ্যমে গতিরোধ করে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে বিস্ফোরণ
এদিকে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি মাইন পাতা সমুদ্রপথ অতিক্রম করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর পারস্য উপসাগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক মহল এখন এই সংঘাতের দিকে গভীর দৃষ্টি রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই সামরিক বাড়াবাড়ি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
জেএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










