পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা আবারও নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। গত ২৮ জুন রোববার আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলার জেরে মঙ্গলবার রাতে বেলুচিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগান সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (৩০জুন) রাতে বেলুচিস্তানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় আফগান বাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, আফগান সেনাবাহিনী নিক্ষিপ্ত ৪টি সামরিক ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান যদি আবারও এ ধরনের হামলা চালায়, তবে পাকিস্তান কঠোর জবাব দেবে।

এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে বিমান অভিযান পরিচালনা করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, ওই অভিযানে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যাতে ২৯ জন টিটিপি সদস্য নিহত হয়েছে।

অন্যদিকে, তালেবান সরকারের দাবি, পাকিস্তানের ওই ‘কাপুরুষোচিত’ বিমান হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬০ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘও জানিয়েছে যে, ওই অভিযানে নিহতদের মধ্যে বেসামরিক ব্যক্তিরা রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্ক চরম তিক্ততায় নিমজ্জিত। ২০২১ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, টিটিপিকে আফগান তালেবান সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো হচ্ছে। তবে তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তে আফগান বাহিনীর হামলায় পাকিস্তানি সেনা নিহতের ঘটনার পর পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামে অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, রোববারের অভিযানটি মূলত সেই সামরিক কার্যক্রমেরই অংশ ছিল।

উভয় দেশের মধ্যে কয়েক দফা মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হলেও দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি হুমকিতে অঞ্চলটিতে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেএস