ডিমলায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী, খোঁজ নেয়নি কেউ

ছবি: প্রতিনিধি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা (কেল্লাপাড়া) ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অথচ ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান দাবি করেছেন, তার এলাকায় একটি পরিবারও পানিবন্দী নেই! পানিবন্দী মানুষগুলোর ভাষ্যমতে, এলাকায় নদীর পানি ঢুকে অনেকের ঘরের মেঝে পর্যন্ত উঠেছে। অনেকে আবার ঘরবাড়ি ভেঙে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ দুই শতাধিক পরিবার ভাঙনের মুখে রয়েছে। খালের ভাঙন ও নদীর তোড়ে একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসাসহ অর্ধশতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি এবং রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে পানিবন্দী মানুষের মাঝে খাবার, গবাদি পশুর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।
ছাতুনামা কেল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান ও শুকুর আলী অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের এলাকার পাঁচ থেকে সাত শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে আছি। ঘরে পর্যন্ত পানি উঠেছিলো, রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একবারের জন্যও খোঁজ নিতে আসেননি। আমাদের চেয়ারম্যান তো জমিদার, তিনি এভাবে কারও খোঁজ নেন না।" তবে তারা জানান, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার ও ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লাভলু ইসলাম বলেন, "প্রায় সাত শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছি। আমার ঘর থেকে পানি নেমে উঠানে এলেও অর্ধশতাধিক পরিবার বাড়িঘর ভেঙে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। পানিবন্দী মানুষের চরম খাদ্যাভাব ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিলেও এমপি ছাড়া কেউ খোঁজ নেননি। এমনকি ইউপি চেয়ারম্যানও আমাদের দেখতে আসেননি।" তিনি আরও জানান, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু লোক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনরোধে তিন শতাধিক জিও ব্যাগ ফেলার কথা বললেও এখনো সেই কাজের শুরু চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একরামুল হক বুধবার রাতে দাবি করেন, "আমার এলাকায় কোনো পরিবার পানিবন্দী নেই!" পরবর্তীতে তার কাছে ছবি ও ভিডিও প্রমাণ রয়েছে জানালে তিনি বলেন, "আমি সকালে বন্যার ত্রাণের চালের জন্য ডিমলা গিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ১৩ মেট্রিকটন চাল ও বিশটি শুকনো খাবারের প্যাকেজ পেয়েছি। প্যাকেজগুলো গতকালই বিতরণ করেছি!"
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরি জানান, পানি বাড়ার খবর আগাম পেয়ে জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীসহ নদীবেষ্টিত এলাকার মানুষকে সতর্ক করা হয়েছিল। বর্তমানে পানি ওঠানামা করলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
জেএস

মহিনুল ইসলাম সুজন, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।










