হাতিয়ায় অস্বাভাবিক জোয়ারে ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, লক্ষাধিক মানুষ আতঙ্কিত

ছবি: সংগৃহীত
বৈরী আবহাওয়া ও মেঘনা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চারটি ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশের প্রায় ৮০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ভেঙে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না হলে আগামী পূর্ণিমার জোয়ারে লক্ষাধিক মানুষ আবারও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও স্থানীয়দের উদ্বেগ:
ঝুঁকিপূর্ণ চার ইউনিয়ন: হাতিয়ার চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভাঙন ও প্লাবন: এর আগে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতার জোয়ারে চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক মেরামত করেছে, তবে পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো এখনো সংস্কার করা হয়নি।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আতঙ্ক: নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম ও আব্দুল খালেক জানান, রাতের জোয়ারের পানির স্রোতের শব্দে তাদের ঘুম আসে না। বাঁধ এতটাই সরু হয়ে গেছে যে যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকেই আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। সোনাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে গাছের গুঁড়ি ও মাটিভর্তি বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালালেও আগামী পূর্ণিমার জোয়ারে তা টিকিয়ে রাখা নিয়ে সংশয়ে আছেন। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের দেখা না মিললেও এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, অস্বাভাবিক জোয়ার ও অতিবৃষ্টির কারণে নদীতীরবর্তী চারটি ইউনিয়নের প্রায় ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
জেএস

নোয়াখালী প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।








