যুক্তরাষ্ট্রর নতুন শুল্ক নীতি বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর

ছবি: সংগৃহীত
জোরপূর্বক শ্রম নিষেধাজ্ঞা শিথিলভাবে প্রয়োগের অভিযোগ এনে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সাময়িক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই নতুন শুল্ক কার্যকর করা হলো।
শুল্কের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
শুল্কের হার: দেশভেদে নতুন শুল্কের হার ১০ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনি ভিত্তি: ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর অধীনে এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা আদালতের আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অধিক সুরক্ষিত।
আমদানির পরিধি: নতুন এই শুল্ক মার্কিন আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে।
ছাড়প্রাপ্ত পণ্য: তেল ও গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যসামগ্রী এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।
ট্রানজিট সুবিধা: পরিবহনাধীন বা ট্রানজিটে থাকা পণ্যগুলো আগামী ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
কোন দেশের জন্য কত শুল্ক?
১০ শতাংশ শুল্কের আওতাধীন দেশসমূহ: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, কানাডা, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, শ্রীলঙ্কাসহ ১৭টি দেশ।
১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের আওতাধীন দেশসমূহ: চীনসহ মোট ৩৮টি দেশ। এর মধ্যে চীন সরকারের বিরুদ্ধে উইঘুর মুসলিমদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যান্য দেশ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোস্ট ফেভার্ড নেশন শুল্কের সাথে সমন্বয় করে মোট ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিকৃত বাণিজ্য চর্চা—উভয়ই সংশোধন করবে এবং শ্রমিকদের কল্যাণ বাড়াবে।"
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ‘পারস্পরিক’ শুল্ক বাতিল করার পর, ওয়াশিংটনের জন্য এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান কঠোর করার আরেকটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
জেএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।







