মাদকমুক্ত সমাজ ও জনগণের সেবা নিশ্চিতের আহ্বান এমপি মিলনের

ছবি: প্রতিনিধি
কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রক্ষা, অতীত ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রেখে জনগণের মৌলিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (২৩জুলাই) দুপুরে মোহনপুর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় এমপি মিলন বলেন, কর্মক্ষেত্রে অবস্থানরত প্রত্যেকের মূল উদ্দেশ্য পরিবার ও সমাজকে ভালোভাবে দেখভাল করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনায় তরুণ সমাজ ও সন্তানরা সমাজের ভুলত্রুটিগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনে প্রায় তিন থেকে চার শ তরুণ ও শিক্ষার্থীর প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে তিনি একে সমাজের বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “ফলাফল হিসেবে আমরা শূন্যের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। কার কোথায় দুর্বলতা ছিল তা খতিয়ে দেখতে হবে। সমাজ আজ বিভ্রান্ত ও মাদকাসক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সভায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাকে অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।”
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সংসদ সদস্য আরও বলেন, “কে কী প্রচার করল তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। আমি কেবল আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যেতে চাই। জনগণ যদি আমাকে পছন্দ করে তবে ভবিষ্যতে ভোট দেবে, না হয় দেবে না। কিন্তু দায়িত্ব পালনে কোনো ত্রুটি রাখা হবে না।”
আইন অমান্যকারী ও অপরাধীদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কোনো অপরাধে উচ্চ মহলের কোনো ধরনের অনুকম্পা বা সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কারো কোনো অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ততা থাকলে সাংবাদিকরা তা প্রকাশ করে দিন। দেশের প্রধানমন্ত্রীও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চান।”
জনগণের ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জনপ্রতিনিধিত্বের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের সাথে থেকে তাদের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করা।”
সভায় সংসদ সদস্য খেলাধুলা, মাদক নির্মূল, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিকার্ড, ভেজাল শিশু খাদ্য রোধ, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা, এবং বেআইনিভাবে পুকুর খনন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের প্রতি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আকতার হোসেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ও মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. খন্দকার সাগর আহম্মেদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হাসান শামীম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম, এলজিইডি কর্মকর্তা মো. রকিব হাসান, পরিসংখ্যান অফিসার ফরহাদ হোসেন, মোহনপুর ট্রাফিক বিভাগের টিআই রবিউল ইসলাম, খাদ্য নিয়ন্ত্রক শফিকুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ আলী রেজা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সাব অফিসার রফিকুল ইসলাম, আইসিটি অফিসার শাহাদাত হোসেন, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মশিউর রহমান, রাজশাহী পল্লীবিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম মেহেদি হাসান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা আরজুমান, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুন নেসা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা উম্মে সুমাইয়া, সমবায় কর্মকর্তা আনিসা দেলোয়ারা আনজু, প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, মেজর আলী বিশ্বাস, আব্দুর রশিদ, গ্রাম আদালত প্রতিনিধি মুক্তি বেগম, তথ্য আপা রূপালি খাতুন, মোহনপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম, মোহনপুর তামিরুল মিল্লাত দাখিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মোহনপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুবেল সরকার, মোহনপুর মডেল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন সাগরসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তাগণ।
জেএস







