সিলেটে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছিনিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা, প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি ও কোথাও কোথাও ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি
সুরমা নদী: পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া সিলেট পয়েন্টেও পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কুশিয়ারা নদী: অমলশীদ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করেছে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে এটি বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
অন্যান্য নদী: সারিগোয়াইন, পিয়াইন, লোভা ও ধলাই নদীর পানিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি ও ত্রাণ মজুদ
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে:
আশ্রয়কেন্দ্র: সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ত্রাণ সামগ্রী: ১০ হাজার ৩১৯ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১ হাজার ২৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য, ৪৮ বান্ডিল ঢেউটিন, ১৭৫ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১০ লাখ টাকা নগদ মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৪১০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ১৫০ প্যাকেট শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা: জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ১০৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, কলেরা স্যালাইন ও অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রাখা হয়েছে। জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্বাস্থ্য বিভাগের বক্তব্য
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, উজানের ঢলের কারণে পানি সাময়িকভাবে বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নেই। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, সিলেটে এখনো পূর্ণাঙ্গ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও ঝুঁকি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেএস







