চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধে ধসআতঙ্কিত এলাকাবাসীর স্থায়ী সমাধানের দাবি

ছবি: প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে দফায় দফায় ধস দেখা দিয়েছে। দেবে যাচ্ছে সিসি ব্লক, আর জরুরি ভিত্তিতে ফেলা জিও ব্যাগ দিয়েও ভাঙন পুরোপুরি রোধ করা যাচ্ছে না। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ নিয়ে বাঁধটির প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মিটার এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে নদের তীরবর্তী মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩জুলাই) দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সরকটারী এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার সিসি ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আ. মজিদ মিয়া বলেন, "এখানে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে এই বস্তা দিয়ে কোনো স্থায়ী কাজ হবে না। উপর থেকে যদি আরও বেশি করে বস্তা ফেলা হতো, তবে হয়তো কিছুটা সম্ভব হতো।" আহম্মদ আলী নামের আরেক স্থানীয় বলেন, "এই বাঁধের রাস্তা যদি ভালোভাবে না মরামত করা হয়, তবে রাস্তা ভেঙে গেলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?"

মিলন মিয়া বলেন, "এই বস্তা দিয়ে হয়তো বা সাময়িকভাবে আটকানো যাবে, তবে সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি—এটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হোক।" এছাড়া রবিউল ইসলাম, মানিক মিয়া, মরিয়ম বেগম, গোলজান বেওয়া ও সিহাব মিয়া বলেন, "নদী ভাঙলে আমাদের ঘরবাড়িও ভেঙে যাবে; আমরা নদীর স্থায়ী বাঁধ চাই, কারণ এটি কেবল অস্থায়ী বাজেট।" এলাকাবাসীর দাবি, উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে মারাত্মক ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা, কৃষিজমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, বাঁধের ওপর দিয়ে বালুভর্তি ভারী ডাম্পার চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কেটে সংযোগ সড়ক নির্মাণের ফলে তীররক্ষা বাঁধ মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্ষায় নদীর স্রোত বাড়লেই একই স্থানে বারবার এমন ধস দেখা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, "ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর কাঁচকোল বাজারের পাশে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে আমরা ৬ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ পেয়েছি। যার মধ্যে সকাল থেকে ৪ হাজার ৭শ জিও ব্যাগ ভরাট করে ডাম্পিং করানো হয়েছে। এতে করে কিছুটা ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমাদের মোট ১২ হাজার জিও ব্যাগের অনুমোদন রয়েছে এবং রাতে আরও ৪ হাজার জিও ব্যাগ এসে পৌঁছেছে। এগুলোও পর্যায়ক্রমে ডাম্পিং করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক-দুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।"
জেএস

হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।











