টাংগাইলের নাগরপুর উপজেলার আগ-দিঘলীয়ায় (কেদারপুর) মহাধুমধামে মহাপ্রভূ জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে। রথযাত্রা যাত্রা উপক্ষ্যে একটি গ্রাম্য মেলারও আয়োজন করা হয়। সকল ধর্ম, শ্রেনী ও পেশার মানুষের উপস্থিতিতে রথাযাত্রা মেলাটি একটি অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলায় পরিনত হয়।

বৃহস্পতিবার(১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই রথাযাত্রায় অত্র এলাকার হাজার হাজার হিন্দুধর্মপ্রান সম্প্রদায় অংশ গ্রহণ করেন। রথযাত্রা যাত্রা উপক্ষ্যে একটি গ্রাম্য মেলারও আয়োজন করা হয়। সকল ধর্ম, শ্রেনী ও পেশার মানুষের উপস্থিতিতে রথাযাত্রা মেলাটি একটি অসাম্প্রদায়িক মিলন মেলায় পরিনত হয়।

জানাযায়, উপজেলার আগ-দিঘলীয়া স্বর্গীয় অমূল্যসাহার বাড়ীতে অনুষ্ঠিত এই রথাযাত্রা ও মেলা শতাব্দীর প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতির উৎসাব ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল বেলা থেকেই নানা অয়োজন ও আরাধনার মধ্য দিয়ে এর অনুষ্ঠানিক সুচণা হয়। বিকেল ৪:৩০ মিনিটে স্বর্গীয় অমূল্যসাহার বাড়ী হইতে রথযাত্রা শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে বিরেন্দ্র সূত্র ধারের বাড়ী আসে। তৎপর আবার বিরেন্দ্র সূত্রধরের বাড়ী হতে উল্টো রথযাত্রাটি অমূল্য সাহার বাড়ীতে পৌঁছে।

মাথায় সিদুঁর, হাতে শাখা ধূতি পায়জামায় বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ এই রথযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন। বার মাসে তের পর্বনের হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতিতে জাগন্নাথের রথযাত্রা ও মেলা বাড়তি আনন্দ ও ভগবানের সান্নিধ্য লাভের এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।

এই ব্যাপারে রথযাত্রা আয়োজকদের অন্যমত-ডাঃ বাবু সুরঞ্জন সূত্রধর জানান, ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় বহু প্রচীনকাল থেকেই এই জগন্নাথের রথযাত্রা আয়োজন ও পুজা আচর্না করে আসছে। আমাদের এই অনুষ্ঠানটি এরই একটি অংশ।

তিনি আরো জানান, আমাদের এলাকায় সবচেয়ে বড় রথযাত্রা অনুষ্ঠান হয় ঢাকার ধামরাইয়ের যশোমাধবের মন্দিরে। আমরাও দরিদ্র হিন্দু সমাজ। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। তবে সমর্থ হলে ভবিষ্যতে আমরাও ব্যাপক আকারে রথযাত্রার আয়োজন করার আশা রাখি।

মহাপ্রভু জগন্নাথের পুজা ও রথযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে এই পুজা ও রথযাত্রার আযোজন করে থাকি। হিন্দু শাস্ত্রমতে, শ্রীকৃষ্ণের প্রণয়ের পর দ্বারকার সাগর পারে তার সৎকারের চেষ্ঠা চলে, কিন্তু 'অধঃদগ্ধের পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরম্ভ হলে তার শবদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর দেহ ভাসতে ভাসতে কলিঙ্গ রাজ্যের সমুদ্র উপকুলে পৌঁছালে সেখানকার আদিবাসীরা তাকে নীলমাধব নামে পুজা শুরু করে ।

আস্তে আস্তে চারিদিকে নীলমাধবের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন (বিষ্ণুর ভক্ত) জোড়- পুর্বক নীলমাধবকে হরণের চেষ্ঠা করলে শবদেহের দ্বারাই প্রতিহত হন। পরাজিত ইন্দ্রদ্যুম্ন বিষ্ণুর স্বরানপন্ন হলে মহাপ্রভু বিষ্ণু তাকে পরার উপকুলে ভেসে আসা কাঠের টুকরো দিয়ে বদ্ধ ঘরে নীলমাধবের মুর্তি তৈরী করে পুজা করার উপদেশ দেন। বিষ্ণুর কথা মতই কাজ চলে। কিন্তু মুর্তি তৈরীতে দেরী হওয়ায় ধৈর্য্য হারিয়ে ইন্দ্রদ্যুম্ন ঘরে প্রবেশ করলে কারুশিল্পী উদাও হয়ে যান। কারণ এই কারুশিল্পী ছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা।

এতে ইন্দ্রদ্যুন্নাই 'বিমর্ষ' হয়ে পড়লে নারদ মুনি তাকে অধঃসমাপ্ত মুর্তিটিকেই পুজা করার পরামর্শ দেন। আর সেই থেকেই প্রতি বছর জৈষ্ঠ মাসের ভরা পুনিমায় জগন্নাথের পুজা প্রচলিত রয়েছে।

ইউ