যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা বাজারে জমি দখল ও মালিকানা স্বত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। বংশপরম্পরায় ভোগদখল করা পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ও তার প্রতিপক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর অভিযোগ, গত সরকারের আমল থেকে তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে একের পর এক মিথ্যা নাশকতার মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। বিনা অপরাধে বারবার থানা-পুলিশ ও আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়েছে তাকে।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর ভাষ্যমতে, তার বাবা প্রায় ৫০ বছর আগে তৈয়বুর রহমানের কাছ থেকে উক্ত জমি ক্রয় করেন। তৎকালীন সময়ে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে জমি হস্তান্তর হলেও রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব হয়নি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ওই জমিতে মোহাম্মদ আলীর পরিবার দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন এবং সরকারি রেকর্ড বা খতিয়ানেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদ আলীর অগোচরে ২০১৯ সালে তরিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ওই জমির মালিকানা দাবি করে বসেন। মোহাম্মদ আলীর দাবি, স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একাধিক সালিশ বৈঠকে তার পক্ষেই রায় দেওয়া হয়েছে এবং তিনি দলিল ও দীর্ঘদিনের ভোগ-দখলের স্বপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। তবুও তরিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে জমি দখলের পাঁয়তারা অব্যাহত থাকায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমির বিবরণ দেওয়া হলো:মৌজা: গোগা, দাগ নং: ১০২৯, খতিয়ান নং: ৫৩৮ (অর্ধ শতাংশ জমি)। মৌজা: গোগা, দাগ নং: ১০৩০, খতিয়ান নং: ১৫৪৫ (অর্ধ শতাংশ জমি)।

দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষা ও এলাকায় শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে মোহাম্মদ আলী একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি ১০৩০ দাগের জমিটি তরিকুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও প্রতিপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী বলেন, "আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এখানে আমার ব্যবসা। আমি চাই আইনগত ও মানবিক উপায়ে বিষয়টি সমাধান হোক।" তিনি স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

বিষয়টির আইনি সুরাহা করতে স্থানীয় প্রশাসন বা আদালতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ইউ