সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির সমাবেশে ককটেল হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এ ধরনের হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই হামলার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে জামায়াতের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করা হয়-
গত ৬ জুলাই সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির পদযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যেখানে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং ৪ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সমাবেশের শুরুতে আকস্মিক বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং পরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে সাধারণ মনে করছে না জামায়াত। তারা অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে না পারা স্থানীয় প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যর্থতা।
প্রশাসনের যোগসাজশের অভিযোগ: বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনার সাথে প্রশাসন জড়িত থাকতে পারে এবং প্রশাসনের যোগসাজশেই সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে দেশবাসী মনে করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পক্ষপাতহীনভাবে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হামলায় নেপথ্যের কুশীলব ও প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা। রাজনীতিতে সহিংসতা, বোমাবাজি ও খুনের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা ও গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
জেএস