ভোর হওয়ার আগ মুহূর্তে, নদীয়ার নবদ্বীপের রেলওয়ে কলোনির টয়লেটের সামনে ফুটে ওঠে এক হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য। ঠান্ডা মাটিতে পরিত্যক্ত এক নবজাতককে ঘিরে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল কয়েকটি পথকুকুর—মানুষের অনুপস্থিতিতে তারা যেন অদৃশ্য প্রহরীর দায়িত্ব নিয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার ভোরে প্রথম শিশুটিকে দেখতে পান শুক্লা মণ্ডল। তিনি দেখেন, কুকুরগুলো কোনো আতঙ্ক ছাড়াই নিখুঁত বৃত্ত বানিয়ে শিশুটিকে ঘিরে রেখেছে, যেন তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করছে। একটু দূরে দাঁড়িয়ে কান্নার ক্ষীণ শব্দ শুনেছিলেন আরেক বাসিন্দা সুভাষ পাল, কিন্তু এমন দৃশ্য কল্পনাও করেননি।

শুক্লা ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলে কুকুরেরা পিছিয়ে যায়। তিনি নিজের ওড়নায় শিশুটিকে জড়িয়ে প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে তাকে মহেশগঞ্জ হাসপাতাল হয়ে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান—শিশুটির কোনো বড় আঘাত নেই; জন্মের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ফেলে যাওয়া হয়েছিল বলে ধারণা।

পুলিশ ও চাইল্ড হেল্পলাইন ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং শিশুটির সুরক্ষার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। তবে শহরজুড়ে আলোচনা একটাই—যে পথকুকুরগুলোর প্রতি সাধারণত অস্বস্তি থাকে, তারাই সেদিন দেখাল অসাধারণ মানবিকতা। এক রেলকর্মীর কথায়, “যে মানুষ শিশুটিকে ফেলে গেছে তার চেয়ে ওরা অনেক বেশি দায়িত্বশীলতা দেখিয়েছে।”