বিশ্বকাপের নকআউটে প্রতিটি ধাপে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিশর কিংবা সুইজারল্যান্ড—প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই তাদের লড়তে হয়েছে নাভিশ্বাস অবস্থা নিয়ে। তবে সেমিফাইনালে যেন সব নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ দেখল ফুটবল বিশ্ব। পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের জাদুকরী প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। আলবিসেলেস্তেদের এই জয়ে দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ডের আক্ষেপ যেন আরও দীর্ঘায়িত হলো।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল মূলত শারীরিক লড়াইয়ের প্রদর্শনী। দুই দলই রক্ষণভাগে মনোযোগ দেওয়ায় গোলমুখে খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কেউ। প্রথমার্ধে মোট ১৯টি ফাউল হয়েছে, যা ম্যাচের উত্তেজনার পারদ বুঝিয়ে দেয়। বল দখলে আর্জেন্টিনা ৫৮ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে কোনো দলই লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি।

বিরতির পর খেলার মোড় ঘুরে যায় ৫৫ মিনিটে। ইংলিশদের পরিকল্পিত এক আক্রমণে রজার্সের ক্রস থেকে বল পেয়ে যান অ্যান্থনি গর্ডন। মলিনার পেছন থেকে ছুটে এসে গর্ডন বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে যেন খোলস ছেড়ে বের হয় আর্জেন্টিনা। আলভারেজ ও মেসি বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও পিকফোর্ডের দেয়াল টপকাতে পারছিলেন না।

অবিশ্বাস্য কামব্যাক

ম্যাচ যখন ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয় স্কালোনির শিষ্যরা। ৮৪ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের একটি শট পিকফোর্ড রুখে দিলেও, পরের মিনিটেই কর্নার থেকে মেসির নিখুঁত পাস থেকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে এনজো সমতা ফেরান।

১-১ সমতায় যখন ম্যাচ ড্রয়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিট) আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা হিসেবে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

পুরো ম্যাচে গঞ্জালেজের গোলমুখে শট, ম্যাক অ্যালিস্টারের পোস্টে লেগে ফিরে আসা বল—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের অদম্য জেদই শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দেয়। ফাইনালে পৌঁছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা আবারও প্রমাণ করল, শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত তাদের হারানো অসম্ভব।

জেএস