ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসরের প্রথম সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি—ফ্রান্স এবং স্পেন। টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে আজ দিবাগত রাত একটায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের উন্মাদনার শেষ নেই। ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার এই মহারণে কার পাল্লা ভারি, তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

ফ্রান্স: সেমিফাইনালে অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল ফ্রান্স। ২০২৬ সালের এই আসরসহ ফরাসিরা এখন পর্যন্ত মোট আটবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। তবে তাদের এই সেমিফাইনাল যাত্রা ছিল উত্থান-পতনে ভরা।

শুরুর দিকে ১৯৫৮, ১৯৮২ এবং ১৯৮৬ সালে সেমিফাইনালে হার মানতে হয়েছিল তাদের। কিন্তু ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালের বাধা টপকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পাওয়ার পর ফ্রান্স আর পেছন ফিরে তাকায়নি। ২০০৬, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে টানা তিনবার সেমিফাইনালে জয় তুলে ফাইনালের টিকিট কেটেছে তারা। জার্মানি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলার বিরল কীর্তি এখন দিদিয়ের দেশমদের।

স্পেন: সাফল্যের হার শতভাগ

সেমিফাইনালের মঞ্চে স্পেনের পদচারণা ফ্রান্সের তুলনায় বেশ সীমিত হলেও, এই ধাপে তাদের সাফল্যের হার ঈর্ষণীয়—শতভাগ!

স্পেন তাদের ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র অফিসিয়াল বিশ্বকাপ সেমিফাইনালটি খেলেছিল ২০১০ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কার্লেস পুয়োল-এর সেই আইকনিক বুলেট হেডারে জার্মানিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার ফাইনালে উঠেছিল স্পেন। এরপর নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের ইতিহাস গড়েছিল ‘লা রোজা’। যদিও ১৯৫০ বিশ্বকাপে স্পেন চতুর্থ হয়েছিল, তবে সেবার কোনো প্রথাগত সেমিফাইনাল ছিল না। তাই পরিসংখ্যানের বিচারে সেমিফাইনালের মঞ্চ স্পেনের জন্য এক পয়া জায়গা।

একদিকে সেমিফাইনালের নিয়মিত মুখ ফ্রান্স, যাদের রয়েছে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে স্পেনের শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড। আজ রাত ১টায় মাঠের লড়াইয়ে কোন দল কার ইতিহাসকে ছাপিয়ে ফাইনালে নাম লেখাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জেএস