দীর্ঘ ২১ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। তবে মাঠের ফুটবলের উত্তেজনার চেয়েও গ্যালারির নিরাপত্তা নিয়ে এখন বেশি উদ্বিগ্ন মার্কিন প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক বিরোধের কারণে এই ম্যাচটিকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার বিশেষ ছক ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য মিরর’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচটিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার এফবিআই, ফিফা এবং স্থানীয় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গ্যালারিতে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের শঙ্কা নিয়ে আলোচনা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ ‘এআই ওয়ার রুম’ (AI War Room) স্থাপন করা হয়েছে, যা রিয়েল-টাইমে স্টেডিয়ামের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া গ্যালারিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সমর্থকদের নির্দিষ্ট দূরত্বে আলাদা রাখার জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক বিরোধের ছায়া ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা এবং ১৯৮২ সালের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রেশ আজও সমর্থকদের মাঝে রয়ে গেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রধান দুশ্চিন্তা হলো, মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন গ্যালারিতে ছড়িয়ে না পড়ে।
ফুটবল ইতিহাসের রোমাঞ্চ রাজনীতির পাশাপাশি ফুটবলের ময়দানেও এই দুই দেশের লড়াই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নিয়েছে। ১৯৮৬ সালের সেই অবিস্মরণীয় ম্যাচ—যেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনা উপহার দিয়েছিলেন ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এবং বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল—সেই স্মৃতি আজও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অম্লান।
এবার নতুন করে উত্তেজনা যোগ হয়েছে লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। ৩৬ বছর বয়সী মেসি এবং ইংলিশ তারকাদের এই লড়াই ম্যাচটির গুরুত্ব ও উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলেও, আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে আজ রাতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। মাঠের ফুটবলে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড—শেষ পর্যন্ত কে হাসবে জয়ের হাসি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জেএস