২০২৪ সালে ক্যারিয়ারের শিখরে থাকা অবস্থায় ভয়াবহ চোটে পড়ে মাঠের বাইরে ছিটকে যেতে হয়েছিল রদ্রিকে। সেই দুঃসময় পেছনে ফেলে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তিনি কেবল স্পেনকে চ্যাম্পিয়নই করেননি, হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (গোল্ডেন বল)। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব জয়ের আনন্দে ভাসল স্পেন।

ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

২০২৪ সালে ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছিল রদ্রিকে। ফিরে আসার পরও লড়তে হয়েছে ছোটখাটো চোটের সঙ্গে। কিন্তু অদম্য এই মিডফিল্ডার হাল ছাড়েননি। শিরোপা জয়ের পর আবেগপ্রবণ রদ্রি বলেন, "একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর পর মুহূর্তেই নিচে নেমে যেতে পারেন। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করলে জীবন তার প্রতিদান দেয়। আমি প্রতিকূলতা জয় করার একটি উদাহরণ।"

টুর্নামেন্ট জুড়ে রদ্রির আধিপত্য

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন রদ্রি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ সাড়ে ৬০০-এর বেশি সফল পাস দেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তার পাসের সফলতার হার ছিল বিস্ময়কর ৯৩ শতাংশ। মাঝমাঠে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন স্পেনের অঘোষিত সেনাপতি। মেসি ও এমবাপ্পের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে তার এই গোল্ডেন বল জয় ছিল সময়ের দাবি।

ফাইনালের চিত্র

ফাইনালে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর ছড়ি ঘোরায় স্পেন। পুরো ম্যাচের ৬৫ শতাংশ বলের দখল ছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের পায়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেন ১৫টি শট নিলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ১০টি শট দুর্দান্তভাবে প্রতিহত করেন। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাসে ফেরান তোরেসের গোলটিই স্পেনকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের স্বাদ এনে দেয়।

সাহসের পুরস্কার পেল স্পেন

রদ্রির মতে, দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতা। তিনি বলেন, "এই দলের রহস্য হলো, প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, আমরা জয়ের জন্য সামনে এগিয়ে যাই। জীবনে সাহসের প্রয়োজন এবং জীবন সেই সাহসের পুরস্কার দেয়।"

২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৬ বছর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবারও ট্রফিটি ঘরে তুলল স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে উরুগুয়ে ও ফ্রান্সের মতো ফুটবলের পরাশক্তিদের কাতারে নাম লেখাল ইউরোপের দলটি। রদ্রির ব্যক্তিগত অর্জনে পূর্ণতা পেল স্পেনের এই ঐতিহাসিক জয়।

জেএস