২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আটলান্টায় যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে এক পর্যায়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে, যার কেন্দ্রে ছিলেন খোদ লিওনেল মেসি।

ম্যাচের নায়ক যখন মেসি নিজেই

ম্যাচের শুরুর দিকে সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছিল না আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। ২১ মিনিটে দলের সমতায় ফেরার সুযোগ ছিল তার সামনে, কিন্তু পেনাল্টি স্পট থেকে নেওয়া মেসির শটটি দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। বিশ্বকাপের চলতি আসরে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। মেসির এই ব্যর্থতা এবং দলের পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে আটলান্টা স্টেডিয়ামে তখন বড় অঘটনের হাতছানি।

তবে একজন কিংবদন্তির পরিচয় পাওয়া যায় প্রতিকূল সময়েই। মেসি সেই পেনাল্টি মিসের হতাশা বুকে চেপে রেখেই ঝাঁপিয়ে পড়েন ম্যাচে ফেরার লড়াইয়ে।

ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত: আর্জেন্টিনা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে (৬৭ মিনিট), তখন মেসির কাঁধেই ছিল দলের হাল ধরার দায়িত্ব। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোলে ব্যবধান কমার পর মেসি যেন নতুন উদ্যমে ফিরে আসেন।

সমতাসূচক গোল: ৮৩ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে মেসির সেই দৃষ্টিনন্দন ভলি গোলপোস্টের ভেতরে যাওয়ার মুহূর্তটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। পেনাল্টি মিসের সব গ্লানি যেন সেই এক শটেই ধুয়ে মুছে ফেলেন তিনি।

কেন এই পারফরম্যান্স স্মরণীয়?

মেসির আজকের খেলা কেবল একটি গোল বা একটি জয়ের জন্য নয়, বরং তার অদম্য মানসিক শক্তির জন্য ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। পেনাল্টি মিস করার পরও ভেঙে না পড়ে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ২-০ থেকে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পথে নিয়ে যাওয়া—এটাই একজন অধিনায়কের সত্যিকারের রূপ।

ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় হয়ে উঠল মেসির সেই 'নেভার-গিভ-আপ' অ্যাটিটিউড। যে মেসিকে ঘিরে এতক্ষণ সংশয় ছিল, শেষ বাঁশি বাজার পর সেই মেসিই হয়ে উঠলেন আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মূল কারিগর। আটলান্টার রাতটি আরও একবার প্রমাণ করল, ফুটবল মাঠে মেসি থাকা মানেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের রসদ টিকে থাকা।

আপনার কি মেসির এই ম্যাচের বিশেষ কোনো মুহূর্ত নিয়ে আরও বিস্তারিত জানার আগ্রহ আছে?

জেএস