নিউইয়র্ক মেট্রো/যাত্রাপথে ফুটবল কসরত আর নাচের বিচিত্র অভিজ্ঞতা

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্যস্ত জনজীবনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মেট্রোরেলই প্রধান ভরসা। তবে কেবল যাতায়াত নয়, এই ট্রেন এখন হয়ে উঠেছে বিনোদনের এক অদ্ভুত মাধ্যম। নিউইয়র্কের মেট্রোরেলের বগির ভেতরে প্রায়শই দেখা মিলছে ফুটবল প্রদর্শনী, গান এবং শরীরচর্চামূলক নাচের।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রেনের বগিতে মাঝেমধ্যেই তরুণদের ফুটবল নিয়ে কসরত করতে দেখা যায়। চলন্ত ট্রেনে ট্রিকস বা কসরত দেখানোর পর তারা টুপি নিয়ে যাত্রীদের কাছে বখশিশের জন্য যান। কেউ কেউ উৎসাহ নিয়ে ১-২ ডলার বখশিশ দেন, আবার অনেকে এড়িয়ে যান। শুধু ফুটবল নয়, মিউজিকের তালে তালে রড ধরে শরীর বাঁকিয়ে দ্রুতবেগে উপরে ওঠা-নামার মতো রোমাঞ্চকর নাচেও মেতে ওঠেন অনেকে।
ট্রেন চলাচলের সময়ের ওপর ভিত্তি করেই এই বিনোদনগুলো ঘটে থাকে। সাধারণত যে স্টেশনগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান একটু বেশি (প্রায় ৫ মিনিট), সেই ট্রেনগুলোতেই কসরতকারীরা বেশি সক্রিয় হন। স্টেশনের মাঝপথে তারা পারফর্ম করেন এবং পরের স্টেশনে নেমে যান।
নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত ও প্রবাসীদের যাতায়াতের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত ‘ই’ ও ‘এফ’ লাইনের ট্রেনগুলো বেশ আধুনিক। এই ট্রেনগুলোতে ডিজিটাল বোর্ড এবং নিয়মিত ঘোষণার ব্যবস্থা থাকলেও, কিছু লাইনে এখনও কোনো অ্যানাউন্সমেন্ট বা বোর্ড নেই। ফলে যাত্রীদের নিজ থেকেই স্টেশনের বিষয়ে ধারণা রাখতে হয়।
যাতায়াত ব্যবস্থার বিষয়ে জানা গেছে, মেট্রোতে চড়তে বর্তমানে ‘অমনি কার্ড’ (OMNY card) ব্যবহার করতে হয়। প্রতিটি স্টেশনেই কার্ড কেনা ও রিচার্জের স্বয়ংক্রিয় মেশিন রয়েছে, যা যাত্রীরা নিজেরাই অপারেট করেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্টেশনেই পুলিশ এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
নিউইয়র্কের প্রবাসীদের সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় জ্যাকসন হাইটস রুজভেল্ট এভিনিউ স্টেশনে। মেট্রো যাত্রার এই বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন নিউইয়র্কের ব্যস্ত জীবনযাত্রার এক অনন্য দিক তুলে ধরে, অন্যদিকে যাত্রাপথে মুহূর্তের জন্য হলেও যাত্রীদের দেয় এক ভিন্নধর্মী বিনোদনের স্বাদ।
জেএস

Sports Desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.








