আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর প্রভাবে দেশের ১২টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। আগামী চার দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের পাশাপাশি ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যার ঝুঁকিতে যে সব এলাকা:

উত্তর-পূর্বাঞ্চল: আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল: গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাগুলোও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চল: রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ধরলা ও দুধকুমার নদ লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানে ভারতের মেঘালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলেও প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমলেও আগামী তিন দিন পর থেকে তা আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি আগামী কয়েক দিন স্থিতিশীল বা হ্রাস পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় ত্রাণ ও জরুরি উদ্ধার তৎপরতা সংক্রান্ত কোনো বিশেষ নির্দেশনার তথ্য বা অন্য কোনো বিষয়ের সহায়তার প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন।

জেএস