পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজির সাজা ৫ বছর: সংসদে বিল পাস

ছবি: সংগৃহীত
পাবলিক পরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল–২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ডিজিটাল জালিয়াতির অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান কার্যকর হলো।
বিলে যেসব অপরাধ ও সাজার বিধান রাখা হয়েছে:
ডিজিটাল কারসাজি: পাবলিক পরীক্ষার ডেটাবেজে অননুমোদিত প্রবেশ, হ্যাকিং, তথ্য পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা লুকানোর মতো ডিজিটাল কারসাজির অপরাধে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস: অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ যেকোনো উপায়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি হিসেবে ৫ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নিষিদ্ধ ডিভাইসের ব্যবহার: পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বৈধ নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তা: কোনো পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনে সহায়তার জন্য কারো সঙ্গে চুক্তি করলে বা করার চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হবে।
উত্তরপত্রের অন্যায্য মূল্যায়ন: কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র অতিমূল্যায়ন (ওভার অ্যাসেস) বা অবমূল্যায়ন (আন্ডার অ্যাসেস) করলে তার সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
পাস হওয়া নতুন এই আইনে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো শিশু এই আইনের অধীনে অপরাধ করলে তাকে সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ার বদলে ‘শিশু আইন’-এর বিধান অনুযায়ী বিচার করা হবে।
প্রসঙ্গত, আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য ১০ বছরের সাজার বিধান থাকলেও নতুন এই বিলে বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে সাজার কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ডিজিটাল যুগে পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেএস

Destiny Reporter
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.











