নিউ ইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে কি গ্রেপ্তার করবেন মেয়র মামদানি? আইনি পর্যালোচনায় প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্ক সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা যায় কি না—সে বিষয়ে আইনি পর্যালোচনা শুরু করেছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। শনিবার (১৮ জুলাই) ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মেয়রের কঠোর অবস্থান
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রসঙ্গ টেনে মেয়র মামদানি বলেন, ‘আমার মতে, নেতানিয়াহুর জায়গা হওয়া উচিত দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আইসিসি তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে।’
মেয়র জানান, একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করার জন্য নিউ ইয়র্ক পুলিশকে (এনওয়াইপিডি) নির্দেশ দেওয়ার আইনি সক্ষমতা তার আছে কি না, তা নিয়ে সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, নতুন কোনো আইন তৈরি করে নয়, বরং বিদ্যমান আইনের আওতায় যতটুকু ক্ষমতা রয়েছে, তার সর্বোচ্চ প্রয়োগই হবে তাদের লক্ষ্য। উল্লেখ্য, মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময়ও তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি উল্টো মেয়র মামদানির বিরুদ্ধেই ‘হামাসকে সমর্থনের’ অভিযোগ তুলেছেন। নিজেকে ও ইসরায়েলকে মার্কিন মূল্যবোধের রক্ষক দাবি করে তিনি বলেন, মেয়র কার নিন্দা বা প্রশংসা করছেন, তা নিয়ে তার ভাবা উচিত।
তবে মেয়র মামদানি বরাবরই ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন, পাশাপাশি তিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলারও বিরোধিতা করেছেন।
অন্যান্য রাজনৈতিক মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি ফিলিস্তিন ইস্যুতে বর্তমান মার্কিন নীতির সমালোচনা করে একে ‘চরম দেউলিয়া নীতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া তিনি ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
নিউ ইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন মামদানি। তিনি পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেন। তার মতে, বর্তমানে সাশ্রয়ী মূল্যে জীবনযাপন নিশ্চিত করাই নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে নিউ ইয়র্কের মেয়রের এই কঠোর ও ব্যতিক্রমী অবস্থানের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.








