শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে করা আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারত সরকার বর্তমানে ‘সক্রিয়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ করে দেখছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া প্রাধান্য পাচ্ছেসংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং তাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রণধীর জয়সোয়াল ভারতের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের একটি অনুরোধ পেয়েছি। অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, যেকোনো দেশের ক্ষেত্রেই প্রত্যর্পণের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই প্রচলিত আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ভারত সরকার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যান্য প্রত্যর্পণ অনুরোধ ও প্রেক্ষাপটব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বৃতি দিয়ে জানতে চান, নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন রাজনীতিবিদকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এবং বর্তমানে ভারতের পুলিশ হেফাজতে থাকা আরেক ব্যক্তির প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না। এর জবাবে জয়সোয়াল জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি আবারও স্পষ্ট করেন যে, অপরাধী যেই হোক, প্রত্যর্পণের যেকোনো অনুরোধ ভারতের বিচারিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক আইন মেনেই নিষ্পত্তি করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। পরবর্তীতে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে ঢাকা তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরদার করে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ভারতের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে যে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.








