‘ইরান চুক্তি ভেস্তে দিতে মার্কিন জনমত প্রভাবিত করছে ইসরায়েল’: ভ্যান্স

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিটিকে ব্যর্থ করতে এবং মার্কিন জনমতকে সেই চুক্তির বিরুদ্ধে প্রভাবিত করতে ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য পরিকল্পিতভাবে অর্থায়ন ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছেন।
জো রোগানের পডকাস্টে বিস্ফোরক মন্তব্য
বুধবার (১৫ জুলাই) জনপ্রিয় পডকাস্টার জো রোগানের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভ্যান্স এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, ইসরায়েল সরকারের ভেতরে কিছু মানুষ আছেন যারা আমাদের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তারা এই সামরিক অভিযান (ইরানের বিরুদ্ধে) চালিয়ে যেতে চান।”
ভ্যান্স জানান, এই কাজের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে একটি বিদেশি প্রচারণা অভিযান চালানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য ট্রাম্পের ‘মাগা’ (Make America Great Again) সমর্থক গোষ্ঠী। টাইম ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের পক্ষে মার্কিন নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্পের সাবেক এক নির্বাচনী প্রচারণাকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
‘নজিরবিহীন’ উত্তেজনা
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের এক স্পষ্ট প্রতিফলন। সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক ও বিশ্লেষক অ্যালন পিঙ্কাস এই ঘটনাকে ‘অশ্রুতপূর্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাসীন ভাইস প্রেসিডেন্ট এর আগে কখনো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিকে ক্ষুণ্ণ করার জন্য প্রকাশ্যে এমন কঠোর অভিযোগ তোলেননি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্স সরাসরি জো রোগানের পডকাস্টকে বেছে নিয়েছেন কারণ, রোগানের মাধ্যমে তিনি মার্কিন তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিতে চান। ভ্যান্স বলেন, “মিত্র দেশের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা নিয়ে আমার আপত্তি নেই, তবে যখন সেই প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বিচারবুদ্ধিকে ম্যানিপুলেট বা নিয়ন্ত্রণ করার পর্যায়ে চলে যায়, তখন তা অসহনীয় হয়ে ওঠে।”
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন
গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটায় সেই চুক্তি এখন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
যদিও ভ্যান্স ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেছেন, তবুও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়—এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার অবস্থান অটল। এছাড়া সাক্ষাৎকারে তিনি জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে এপস্টেইনের সংযোগের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যান্সের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের বিপরীতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.








