অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান, রামাল্লাহ ও নাবলুসে উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার (৬ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে নাবলুস, রামাল্লাহ ও আল-বিরেহসহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি ও তল্লাশি চালিয়েছে সেনারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নাবলুসের দক্ষিণে মাদামা শহরে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী সামরিক বুলডোজার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের কৃষি জমিতে থাকা কয়েক ডজন জলপাই গাছ উপড়ে ফেলেছে। এলাকাটি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য নির্মিত একটি বাইপাস সড়কের পাশে অবস্থিত।
এদিকে, রামাল্লাহর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেইত রিমা ও কাফর আইন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে স্থানীয় ফিলিস্তিনি যুবকদের তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনারা টিয়ার গ্যাস ও রাবার-আবৃত ধাতব বুলেট নিক্ষেপ করে। রামাল্লাহর পূর্বে আল-মুগাইয়ির গ্রাম এবং আল-বিরেহ শহরের সাতেহ মারহাবা এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। আল-বিরেহে ইসরায়েলি সেনারা একটি আবাসিক ভবনের ছাদ দখল করে সেটিকে অবৈধ পসাগোট বসতির দিকে নজরদারির জন্য সামরিক চৌকি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চলতি মাসের শুরুতে ফিলিস্তিনের ‘ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন’ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের ১১ হাজার ৭৪টি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে হেবরনে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৯১৯ জন এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে।
এসব অভিযানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া না গেলেও, পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং অবরোধের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বা অন্যান্য কোনো উন্নয়ন সম্পর্কে আপনি কি আরও জানতে চান?
জেএস

international desk
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.









