সৃষ্টিশীলতায় আজীবন বেঁচে থাকবেন কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ তার সৃষ্টিশীলতা দিয়ে যেমন সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি সংগীতপ্রেমীদের মনেও গড়ে তুলেছেন এক অনন্য স্থান।
তার গল্প, সংলাপ ও নির্মাণে ব্যবহৃত গানগুলো শুধু বিনোদনের উপাদান ছিল না; বরং মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, স্মৃতি ও জীবনের গভীর অনুভূতিকে নতুনভাবে প্রকাশ করেছে। তাই তার সৃষ্টি আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সমানভাবে মুগ্ধ করে চলেছে।
২০১২ সালের ১৯ জুলাই হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনেও নেমে আসে শোকের ছায়া। দুই বাংলার অসংখ্য গায়ক, সুরকার ও সংস্কৃতিকর্মী নানা আয়োজনের মাধ্যমে এই কিংবদন্তি লেখককে স্মরণ করেছেন।
বিশেষ করে কলকাতার কয়েকজন শিল্পী তাকে উৎসর্গ করে শ্রদ্ধার গান প্রকাশ করেন, যেখানে হুমায়ূনের সাহিত্য, মানবিকতা এবং সৃষ্টিশীল জীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা যায়।
প্রতিবছর তার মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মদিন ঘিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
তার লেখা গান নতুন করে পরিবেশিত হয়, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, আর ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রিয় উক্তি, বই ও স্মৃতিচারণ ভাগ করে নেন। নতুন প্রজন্মও তার সাহিত্যকর্ম ও নাটকের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছে।
হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শিল্পীদের এই সংগীতভিত্তিক শ্রদ্ধা প্রমাণ করে, একজন স্রষ্টার মৃত্যু হলেও তার সৃষ্টির মৃত্যু হয় না।
তিনি আজও মানুষের অনুভূতিতে বেঁচে আছেন তার কালজয়ী উপন্যাস, জনপ্রিয় নাটক, হৃদয়ছোঁয়া চলচ্চিত্র এবং স্মৃতিময় গানগুলোর মধ্য দিয়ে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে হুমায়ূন আহমেদের নাম তাই চিরকাল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।
ইউ

উত্তম সরকার
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.












