ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এরই মধ্যে তার মরদেহ শোকাবহ পরিবেশে পবিত্র শহর কোমে এসে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে হামাস।
তেহরানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা শেষে সোমবার প্রয়াত নেতার মরদেহ কোমে পৌঁছায়। মঙ্গলবার সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। এরপর বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালা হয়ে বৃহস্পতিবার তার নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার দীর্ঘ সময় পর বর্তমানে রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলছে।
এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে হামাস। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ক্ষমতায় থাকার পর গোষ্ঠীটি তাদের প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার কথা জানিয়েছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর মাধ্যমে একটি টেকনোক্র্যাট বা বিশেষজ্ঞনির্ভর বেসামরিক প্রশাসন গঠনের পথ উন্মুক্ত হলো। গাজার নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি) প্রস্ততি নিচ্ছে। হামাস আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকায় বেসামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন গতির সঞ্চার হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান এখনো থামেনি। সোমবারও গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে—যার মধ্যে গাজায় ছয়জন এবং লেবাননে চারজন রয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একটি সংস্থা গাজার চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়াকে ইসরায়েলের আটক করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি একে ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে এবং তার জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে ইরানের নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে গাজার শাসনব্যবস্থায় এই বড় পরিবর্তন—উভয় ঘটনাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
জেএস