দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা উল্লাসআর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বসেরা স্পেন

ছবি: সংগৃহীত
রূপকথার এক ফাইনাল উপহার দিল নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়াম। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও ফুটবলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় গোলে লা রোজা বাহিনী ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল।
ম্যাচের ধীরস্থির শুরু ও স্পেনের আধিপত্য
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বজায় রাখে স্পেন। তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল ও অধিনায়ক রদ্রির দক্ষতায় স্পেনের আক্রমণের ধার ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধে স্পেনের বল পজেশন ছিল ৬৫ শতাংশ, যা প্রমাণ করে ম্যাচে কতটা নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে কোনো শটই লক্ষ্য বরাবর নিতে পারেনি। ৭ মিনিটে আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসিকে গোল থেকে বঞ্চিত করে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, স্পেন আজ শিরোপা ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না।
মিনিট প্রতি টানটান উত্তেজনা
স্পেন আক্রমণের পর আক্রমণ সাজালেও আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ছিলেন দেয়াল হয়ে। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে ওয়ারজাবালের জোরালো শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন তিনি। বিরতির পর লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ইনজুরি এবং পারদেসের হলুদ কার্ড আর্জেন্টিনার রক্ষণ ও মিডফিল্ডে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তবে রক্ষণভাগে ওতামেন্দি ও মন্তিয়েলের দৃঢ়তায় আর্জেন্টিনা ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে ছিল দীর্ঘ সময়।
অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের সেই গোল
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের গোলটি ফাউলের কারণে বাতিল হলে হতাশায় পড়ে স্প্যানিশ শিবির। কিন্তু সেই হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (১০৬ মিনিটে) ছন্দপতন ঘটে আর্জেন্টিনার রক্ষণে। পেদ্রো পোরোর নিখুঁত ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্ট থেকে ফেরান তোরেস বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মাতান পুরো গ্যালারি।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার ছন্দপতন
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা আর্জেন্টিনা এদিন যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। রেকর্ড নথিবদ্ধ করার পর থেকে এটি ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ, যেখানে তারা ম্যাচের ৭০ মিনিট পর্যন্ত লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনার ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। শেষদিকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তোরেসের সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বজয়ের মুকুট পরল স্পেন। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো অতিরিক্ত সময়ের গোলে শিরোপা হাতছাড়া হলো আর্জেন্টিনার। নিউ ইয়র্কের আকাশে আজ শুধুই স্প্যানিশ উল্লাস!
জেএস

স্পোর্টস ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।











