ভিএআর নাটকে গোলবঞ্চিত স্পেন

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সাক্ষী হলো নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়াম। স্পেনের একটি নিশ্চিত গোল বাতিল হওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। রেফারি এবং ভিএআর (VAR)-এর যৌথ সিদ্ধান্তে বাতিল হয় স্পেনের সেই গোলটি, যা ম্যাচটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।
কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে?
ম্যাচের ৯৬তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের একটি প্রচেষ্টা থেকে বল পৌঁছায় মিকেল মেরিনোর কাছে। মেরিনো বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট নেওয়ার সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে শারীরিক লড়াইয়ে জড়ান। মেরিনোর সেই শটটি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দারুণভাবে ব্লক করলেও, ফিরতি বলটি কাছেই থাকা নিকো উইলিয়ামস দ্রুত জালে জড়িয়ে দেন।
গোল হওয়ার সাথে সাথে স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও সমর্থকরা উৎসব শুরু করেন। কিন্তু সেই উৎসব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন।
গোল বাতিলের কারণ
রেফারির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে বল দখলের লড়াইয়ে মিকেল মেরিনো আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ওতামেন্দির ওপর ফাউল করেছিলেন। মেরিনো ওতামেন্দির চ্যালেঞ্জকে প্রতিহত করার প্রক্রিয়াটি নিয়মবহির্ভূত ছিল বলে গণ্য করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ভিএআর (VAR) কক্ষে পাঠানো হয় এবং রিপ্লে দেখার পর রেফারি তার প্রাথমিক সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন। ভিএআর গোল বাতিলের এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত হিসেবে বহাল রাখে।
ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত
এই গোল বাতিলের ঘটনাটি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল একটি বিশাল স্বস্তির মুহূর্ত। যদি গোলটি বৈধ হতো, তবে ম্যাচের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারত। স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে তখন কিছুটা হতাশা কাজ করলেও, ঠিক ১০ মিনিট পরেই ফেরান তোরেসের করা গোলটি স্পেনকে শিরোপার সুবাস এনে দেয়।
বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ভিএআর-এর এই নির্ভুল প্রয়োগ এবং ফাউলের কারণে গোল বাতিলের ঘটনাটি এই ফাইনালকে দর্শকদের কাছে দীর্ঘসময় স্মরণীয় করে রাখবে।
জেএস

স্পোর্টস ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।











