মেসির সঙ্গে উত্তপ্ত বিতর্ক/এক সপ্তাহ পর মুখ খুললেন মিসর কোচ

ছবি: সংগৃহীত
কাতার বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার সেই আলোচিত ঘটনার এক সপ্তাহ পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচে লিওনেল মেসির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে মেসির কান্নার বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি ও বর্ণবাদের অভিযোগের জবাব
ম্যাচের শেষ দিকে মেসির সঙ্গে তর্কের সময় হোসাম হাসানের বুকের ওপর দুই হাত ক্রস করার ভঙ্গিমা নিয়ে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকের ধারণা ছিল, এটি কোনো বর্ণবাদবিরোধী ইঙ্গিত। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মিসরীয় কোচ।
তিনি বলেন, “ওটা বর্ণবাদ নিয়ে কোনো ইঙ্গিত ছিল না। আমি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে, তিনি ন্যায্য আচরণ করছেন না।” ওই ঘটনার সময় মেসি বারবার তাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, “কেন? কেন? কেন?” এরপর মেসি আবেগের বশবর্তী হয়ে কেঁদেও ফেলেছিলেন বলে দাবি করেছেন হাসান।
রেফারির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ম্যাচের ফলাফলের পেছনে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন হোসাম হাসান। তিনি দাবি করেন, আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে রেফারির ওপর চাপ ছিল, যার ফলে মিসরের একটি গোল বাতিল করা হয় এবং মোহাম্মদ সালাহকে করা ফাউল সত্ত্বেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।
হাসান আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা কোনো সম্মান বা ফেয়ার প্লে পাইনি। মনে হচ্ছে, পুরো বিশ্বকাপটিই আর্জেন্টিনার দিকে পরিচালিত হচ্ছে। রেফারি একটি জাতির পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছেন।” জীবন এবং খেলার মাঠ—উভয়ই অন্যায্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, ওই ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তফা জিকোর গোলে একপর্যায়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিসর। এমনকি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি পেনাল্টিও আটকে দিয়েছিলেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। তবে শেষ মুহূর্তে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আলবিসেলেস্তারা।
এই জয় এবং বিতর্কিত রেফারির সিদ্ধান্তের রেশ যেন এখনো কাটছে না। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে এখন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেএস

স্পোর্টস ডেস্ক
© 2026 দৈনিক ডেসটিনি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।











