সংবাদটি সরানো হতে পারে, অথবা লিঙ্কটি ভুল হতে পারে। অনুগ্রহ করে URL টি পরীক্ষা করুন অথবা আমাদের অন্যান্য সাম্প্রতিক সংবাদগুলি দেখুন।
দীর্ঘ ৭২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে পরাজিত করে ইতিহাস গড়ল সুইসরা। এর আগে ১৯৫৪ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে শেষবার শেষ আটের টিকিট পেয়েছিল তারা। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে পারেনি। গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলই সুযোগ নষ্ট করলেও স্নায়ুচাপে জয়ী হয় সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়ার কুচো হার্নান্দেজ ও ডেভিনসন সানচেজ গোল করতে ব্যর্থ হন। সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্ত দক্ষতায় হার্নান্দেজের শট আটকে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ পর্যন্ত রুবেন ভার্গাসের সফল স্পট-কিকে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় সুইজারল্যান্ডের।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আটলান্টায় যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে এক পর্যায়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে, যার কেন্দ্রে ছিলেন খোদ লিওনেল মেসি। ম্যাচের নায়ক যখন মেসি নিজেই ম্যাচের শুরুর দিকে সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছিল না আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। ২১ মিনিটে দলের সমতায় ফেরার সুযোগ ছিল তার সামনে, কিন্তু পেনাল্টি স্পট থেকে নেওয়া মেসির শটটি দক্ষতার সঙ্গে রুখে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। বিশ্বকাপের চলতি আসরে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। মেসির এই ব্যর্থতা এবং দলের পিছিয়ে পড়া—সব মিলিয়ে আটলান্টা স্টেডিয়ামে তখন বড় অঘটনের হাতছানি।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে আজকের রাতটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একটি ম্যাচ, একটি স্টেডিয়াম এবং ৯০ মিনিটের এক অকল্পনীয় আখ্যান—যেখানে একদিকে ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হারের রেকর্ড ভাঙার ভয়, অন্যদিকে ছিল মিসরের সালাহ-বাহিনীকে হারিয়ে রূপকথার প্রত্যাবর্তন। প্রথমার্ধের দীর্ঘশ্বাস ও 'অভিশপ্ত' পরিসংখ্যান ম্যাচের শুরু থেকেই আটলান্টার বাতাসে ছিল এক অনিশ্চয়তার দোলাচল। ১৫ মিনিটে ইয়াসির ইব্রাহিমের হেড যখন আর্জেন্টিনার জাল কাঁপাল, তখন গ্যালারিতে থাকা হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকের মনে কেবল একটিই ভয় কাজ করছিল—পরিসংখ্যান। বিশ্বকাপে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা কোনো ম্যাচই যে জয় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা!
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে এক অবিশ্বাস্য ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। প্রথমার্ধের বিপর্যয়: ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় মিসর। এরপর ২০তম মিনিটে লিওনেল মেসি পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেলেও মিসর গোলরক্ষক মোস্তফা শৌবির চমৎকার দক্ষতায় তা রুখে দেন।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। তবে মাঠের বড় জয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রোমেলু লুকাকু ও তার সতীর্থদের উদ্যাপন। বেলজিয়ামের চতুর্থ গোলের পর তাদের করা নাচটিকে নেটিজেনরা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ডান্স’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে। ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতির আলোচনার বিষয়টি তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখা বালোগানকে নিয়ম ভেঙে একাদশে রাখা নিয়ে বেলজিয়াম শিবিরে ছিল ক্ষোভ। ম্যাচ শেষে বেলজিয়াম অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেমানস ইঙ্গিত দেন, এই বিতর্ক তাদের আরও তাতিয়ে দিয়েছিল। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সব বিতর্কের জবাব দেবেন মাঠের খেলায়।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত জনজীবনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মেট্রোরেলই প্রধান ভরসা। তবে কেবল যাতায়াত নয়, এই ট্রেন এখন হয়ে উঠেছে বিনোদনের এক অদ্ভুত মাধ্যম। নিউইয়র্কের মেট্রোরেলের বগির ভেতরে প্রায়শই দেখা মিলছে ফুটবল প্রদর্শনী, গান এবং শরীরচর্চামূলক নাচের। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ট্রেনের বগিতে মাঝেমধ্যেই তরুণদের ফুটবল নিয়ে কসরত করতে দেখা যায়। চলন্ত ট্রেনে ট্রিকস বা কসরত দেখানোর পর তারা টুপি নিয়ে যাত্রীদের কাছে বখশিশের জন্য যান। কেউ কেউ উৎসাহ নিয়ে ১-২ ডলার বখশিশ দেন, আবার অনেকে এড়িয়ে যান। শুধু ফুটবল নয়, মিউজিকের তালে তালে রড ধরে শরীর বাঁকিয়ে দ্রুতবেগে উপরে ওঠা-নামার মতো রোমাঞ্চকর নাচেও মেতে ওঠেন অনেকে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও শক্তিশালী মিশর। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে নামা এই ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। ম্যাচটি সামনে রেখে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলোয়াড়দের ফর্ম ও অতীত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছে আর্জেন্টিনা।
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটল বেলজিয়ামের বিপক্ষে। সিয়াটল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) শেষ ষোলোর লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাল বেলজিয়াম। এই পরাজয়ের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—সবারই বিদায় নিশ্চিত হলো।
বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে কাঁদিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিল স্পেন। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে মিকেল মেরিনোর নাটকীয় গোল লা রোজাদের ১-০ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছে। এর ফলে স্বপ্নের দৌড় থেকে ছিটকে গেলেন রোনালদো, আর দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলল স্পেন। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বজায় রেখেছিল স্পেন। বল পজেশনে এগিয়ে থেকে তারা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার দেয়াল টপকাতে পারছিল না। প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারসাবাল, লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনার প্রচেষ্টাগুলো কস্তা দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন। অন্যদিকে, পর্তুগাল মূলত রোনালদোর ব্যক্তিগত ঝলক এবং কাউন্টার অ্যাটাকের অপেক্ষায় ছিল। নুনো মেন্ডেসের একটি শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্রসবারে লেগে ফিরলে গোলবঞ্চিত হয় পর্তুগাল।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন ও পর্তুগাল। বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাত ১টায় ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে পরিসংখ্যান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—উভয়ই স্পেনের জয়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।