চট্টগ্রাম নগরের ২নং ষোলশহর সড়কের অর্ধেক জায়গা এখন ময়লার দখলে। ডাস্টবিন উপচে পড়া আবর্জনা আর তীব্র দুর্গন্ধের কারণে সড়কে চলাচল করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ পথচারীদের।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশের নির্দিষ্ট ডাস্টবিনটি ময়লায় কানায় কানায় ভর্তি। এর চারপাশে প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন খাবারের উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। যদিও সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি সেখানে উপস্থিত ছিল, তবে অত্যন্ত ধীরগতিতে ময়লা অপসারণের কাজ চালাতে দেখা যায়।

গন্ধের কারণে টেকা দায়

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের পাশেই রয়েছে কয়েকটি নামকরা স্কুল-কলেজ। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী এই রুট দিয়ে যাতায়াত করেন।

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

এক কলেজছাত্রী জানান, "গন্ধের জন্য সড়কে এক মিনিটও দাঁড়ানো যায় না। কোচিংয়ে আসার সময় নাক চেপে দৌড়ে পার হতে হয়। এমনকি জামাকাপড় ও ব্যাগেও সেই দুর্গন্ধ লেগে যায়।"

অভিভাবকদের ক্ষোভ

সন্তানকে স্কুলে নিয়ে আসা অভিভাবক মো. রফিক বলেন, "বাচ্চাকে স্কুলে দিতে এসে এই দৃশ্য দেখলে মাথা গরম হয়ে যায়। এভাবে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা পচে থাকলে ডেঙ্গু ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়বেই। সিটি করপোরেশন কি ঘুমিয়ে আছে?"

পথচারীদের প্রতিক্রিয়া

অফিসগামী পথচারী জেসমিন আক্তার বলেন, "নগরের অসহনীয় যানজটের ওপর আবার এই পচা গন্ধ। মানুষের স্বাভাবিকভাবে চলাচলের কোনো উপায় নেই।"

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জনবল সংকটের কারণে ময়লা অপসারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে ২নং ষোলশহর এলাকাটিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ময়লা অপসারণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

এদিকে কেবল এককালীন ময়লা পরিষ্কার নয়, বরং নিয়মিত তদারকি এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নগরবাসী।

জেএস