সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি চোরাই মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের এ অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

শাহজাদপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করে আসছিল। চক্রের সদস্যরা চুরি করা মোটরসাইকেল বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রেখে পরে সেগুলো বিক্রি করত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চক্রটিকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেয় পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাতে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালায়। অভিযানে এসআই মো. আজিজুল ইসলাম, এসআই মিজানুর রহমানসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য মনিরুল ইসলাম (২৯), রায়হান হোসেন (২৪) ও বেলাল হোসেন (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনটি পালসার ১৫০ সিসি, একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ সিসি এবং একটি প্লাটিনা ১০০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বৈধ কাগজপত্র ও নিবন্ধন যাচাই করে সেগুলো চোরাই বলে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় শাহজাদপুর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল চুরি বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি আরও বলেন, চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু চোরদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, জেনেশুনে চোরাই মোটরসাইকেল কেনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, এসব অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে অবৈধ বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক মাসে শাহজাদপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও চোরচক্রকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পুলিশের এ অভিযানে চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সচেতন মহলের মতে, মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে অস্বাভাবিক কম দামে মোটরসাইকেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। অন্যথায় চোরাই যানবাহন কেনার মাধ্যমে অনেকেই অজান্তে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্তের কাজ চলছে। আন্তঃজেলা এই চোরচক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইউ