দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে বন্যাকবলিত এলাকার মাঠপর্যায়ের সকল স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন্যা শুরুর প্রথম দিন থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর পিআইডি সম্মেলন কক্ষে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসা, নিরাপদ পানি সরবরাহ, সাপে কাটার চিকিৎসা এবং গর্ভবতী নারী ও শিশুদের বিশেষ সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে কাজ করছে।

১. সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা

বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ায় সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে ২১,০০০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে আরও ১,০০০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত সাপে কাটা সকল রোগীকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এই কারণে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

২. গর্ভবতী মা ও শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার

দুর্গত এলাকায় গর্ভবতী নারী, প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসাসেবায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

কোনো প্রসূতির জরুরি অবস্থা তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্পিডবোট, স্থানীয় নৌকা বা বিকল্প যেকোনো উপায়ে তাকে দ্রুত নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

৩. পানিবাহিত রোগ ও মহামারি প্রতিরোধে প্রস্তুতি

বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। সে লক্ষ্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর বিশাল মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে: ইতিমধ্যে ৭ লাখ ২৯ হাজার ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ভাণ্ডারে আরও ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি ট্যাবলেট আপদকালীন সময়ের জন্য সংরক্ষিত আছে।

সম্ভাব্য ডায়রিয়া মোকাবিলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ ওরাল স্যালাইন প্রস্তুত রয়েছে।

সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য প্রায় ১০,০০০ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বন্যা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকে প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সাথে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বন্যার পানি প্রবেশ করলেও দ্রুততম সময়ে সকল মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে পানি নেমে যাওয়ায় সেখানে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

দুর্যোগের এই সময়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:

আসাদুল হাবিব দুলু, মন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মন্ত্রী, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এম ইকবাল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মো. সাইদুর রহমান খান, সচিব, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সরকারের স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত মাঠে কাজ করছেন। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আরও সমন্বিত ও কার্যকর উপায়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ইউ