আশিক চৌধুরীর বিনিয়োগের ফাঁপা বেলুন!

নিজস্ব প্রতিবেদন
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশ থেকে আনা হয় তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত আশিক চৌধুরীকে। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় বড় প্রত্যাশা—দেশে বিনিয়োগের জোয়ার আসবে, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বড় পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগ সম্মেলন, সাবলীল উপস্থাপনা ও আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যে শুরুতে আলোচনাও তৈরি হয়।
তবে সময় গড়ালেও সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন বাস্তবে দেখা যায়নি। নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংক খাতের সংকট ও আস্থাহীনতায় দেশি বিনিয়োগকারীরাই পিছু হটছেন। নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আসা তো দূরের কথা, অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি ধরে রাখতেই ব্যস্ত।
সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিনিয়োগের তিনটি প্রধান সূচক—বিডায় নিবন্ধিত প্রস্তাব, এফডিআই এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি—সবই নিম্নমুখী। যদিও নিট এফডিআই কিছুটা বেড়েছে, এর বড় অংশ এসেছে পুরোনো বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে। নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ নেমে এসেছে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
বিডার নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাবেও বড় ধস নেমেছে। করোনাকালের চেয়েও কম বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে সাম্প্রতিক অর্থবছরে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগের হার, ঋণপ্রবাহ ও শিল্পের মূলধনী আমদানি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শিল্প বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থান হ্রাসের ঘটনাও বাড়ছে।
ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বিনিয়োগের বড় বাধা। বিদেশি কূটনীতিকদের কাছ থেকেও বড় বিনিয়োগ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা মিলছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, আশিক চৌধুরীর উদ্যোগ ও সক্রিয়তা থাকলেও কাঠামোগত সংস্কার এগোয়নি। নীতিগত পরিবর্তন ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের বদলে বড় অবকাঠামো ও ‘হাই-ভ্যালু’ চুক্তিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ প্রচারণা যতটা জোরালো ছিল, বাস্তব ফলাফল ততটাই সীমিত থেকেছে।

Siam Islam
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










