গণপিটুনি মব সন্ত্রাসের ভয়াবহ রূপ

নিজস্ব প্রতিবেদন
গত দেড় বছরে বাংলাদেশে “মব সন্ত্রাস” ভয়াবহ সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। চুরি বা ছিনতাইয়ের অভিযোগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত হচ্ছে গণপিটুনি, যার পরিণতিতে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। পাশাপাশি বাড়িঘর ও শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মাজার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে হামলা, গণমাধ্যম অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা।
মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় আট বছরে গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে নিহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ, সেখানে ২০২৪ সালে সংখ্যাটি লাফিয়ে শতাধিক ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসেই নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই শত। রাজধানী ঢাকা এ তালিকায় শীর্ষে, এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালসহ অন্যান্য বিভাগ।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা, গুজবের বিস্তার ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি গণপিটুনিকে উসকে দিচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণ পর্যন্ত মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। আশঙ্কাজনকভাবে, শিশু ও প্রতিবন্ধীরাও এই সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে—ধর্ম অবমাননা বা চোর সন্দেহের মতো অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ প্রাথমিকভাবে কিছু গ্রেপ্তার করলেও দ্রুত জামিনে মুক্তি পাওয়ায় মামলাগুলোর অগ্রগতি থমকে গেছে। কোথাও কোথাও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ালেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হলে গণপিটুনির মতো বর্বরতা আরও বাড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা, গুজব প্রতিরোধ এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানোই এই সংকট থেকে উত্তরণের প্রধান উপায়।

Siam Islam
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










