দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জন্মভূমি ও মায়ের কাছে এই ফেরা বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০৮ সালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। রিমান্ডে নির্যাতনের পর শারীরিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার দীর্ঘ প্রবাসজীবন। ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর হাসপাতালেই মায়ের সঙ্গে তার শেষ দেখা হয়। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি দীর্ঘ ১৭ বছর।

ছোট বয়স থেকেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে তারেক রহমানের জীবন জড়িয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পারিবারিক কারাবরণ, পরে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি হওয়া—সবই তার শৈশব-কৈশোরকে প্রভাবিত করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই বিশ্ব রাজনীতি, দর্শন ও মানুষের অধিকার নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে শুরু করেন তিনি।

১৯৮৮ সালে বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়ে তৃণমূল রাজনীতি থেকে নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসেন তারেক রহমান। ২০০৫ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হন। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনে চলে যান এবং সেখান থেকেই দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রবাসে থেকেও দল পুনর্গঠন, আন্দোলন ও কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। নেতাকর্মীদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়েও নেপথ্যে থেকে সংগঠনকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

এখন তার দেশে ফেরা বিএনপির জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করছেন সমর্থকরা। বহু বাধা পেরিয়ে এই প্রত্যাবর্তনকে তারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।