এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সাবেক–বর্তমান কর্মকর্তাসহ মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়–১ এ রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক মামলাটি দায়ের করেন।


এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ঋণের সীমা অনুমোদন ও নবায়নে নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, মার্জিন মানি না নিয়েই এলটিআর ইস্যু করেছেন এবং আমদানিকৃত পণ্য দেশে এসেছে কি না তা যাচাই না করেই দায় সৃষ্টি করেছেন। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।


এ মামলায় গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের এমডি রাশেদুল আলমসহ প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অনিয়মে সহায়তার অভিযোগে দুই ইনস্পেকশন এক্সিকিউটিভ এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক এমডি-চেয়ারম্যান, ডিএমডি, জিএমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা না নেওয়া, গুদামে থাকা পণ্যের যথাযথ বিমা নিশ্চিত না করা, বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য কৃত্রিমভাবে বেশি দেখানো এবং অপর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে ঋণ ছাড় এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। অনুমোদিত সীমার বাইরে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড উভয় ধরনের দায় সৃষ্টি এবং ঋণের অর্থ গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের প্রমাণও পাওয়া গেছে।


কমিশন জানায়, ২০১০ সাল থেকে চলমান এসব লেনদেনে অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র স্পষ্ট। আর্থিক ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, গত বছর এস আলম গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিষয়ে জনতা ব্যাংক মামলা করেছিল। তদন্তে উঠে আসে, গত ১৪ বছরে গ্রুপটি ব্যাংকটির কর্পোরেট শাখা থেকে প্রায় ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খুব সামান্য পরিমাণ পরিশোধ করেছে।