রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পৌর এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

চারঘাট পৌরসভা ১৮.৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। ৯ ওয়ার্ডের এই এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বাস করেন। পৌরসভার ১২৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ পাকা হলেও ড্রেনেজ, লাইটিংসহ বেশ কিছু অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

বিগত কয়েক বছরে ইউজিপসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ অর্থ অপব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। দুদক তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও কার্যত পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব পাওয়া বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমানের বিরুদ্ধেও লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবায় হয়রানি নিত্যদিনের ঘটনা। ঠিকাদারদের বিল ছাড় করতে ৩.৫% ঘুষ নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পৌরসভার বরাদ্দ উপজেলা পরিষদ এলাকায় ব্যয় হওয়ায় একই কাজের জন্য দ্বৈত বিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রকৌশলী আতাউর রহমান সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি শুধু জানান, টিআর প্রকল্পের ২২ লাখ টাকার কাজ চলছে এবং ইউজিপের ব্যয়ের তথ্য তাঁর কাছে সর্বদা থাকে না। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তিনি ভিত্তিহীন দাবি করেন।

পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এসব অভিযোগ প্রথমবার শুনছেন এবং বিষয়গুলো নিয়ে তিনি প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে উন্নয়ন কাজের বাস্তবায়নে স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।