বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে—যা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের ফল। কিন্তু এই রায় বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাধা এখন ভারত, যেখানে হাসিনা বর্তমানে আশ্রয়ে আছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জোরালো হলেও দিল্লি এখনো নীরব কূটনৈতিক অবস্থানে রয়েছে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রা এক ধরনের ট্র্যাজিক ইতিহাসের অনুরণন—বিপ্লবী পরিবার, হত্যাকাণ্ডে পরিবারহারা হওয়া, নির্বাসন, ক্ষমতায় ফেরা এবং দীর্ঘ সময়ের কঠোর শাসন। ১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে পুরো পরিবার হারানোর পর তিনি ছয় বছর ভারতেই কাটিয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে তার রাজনৈতিক অবস্থানে ভারতের প্রতি গভীর আস্থা তৈরি করে। দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নেন এবং বহু বছরের সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ২০০৯ থেকে ১৫ বছর টানা ক্ষমতায় থেকে উন্নয়ন ও দমননীতির দ্বৈত সমালোচনার মুখে পড়েন।

গত বছরের শিক্ষার্থী আন্দোলন ছিল তার সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা—সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও সহিংসতা ঘটে। অবশেষে সরকার পতন, দেশত্যাগ এবং পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা—সবকিছুই তাকে আবারও নির্বাসনের মুখে ঠেলে দেয়।

হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া, ড্রোন-হেলিকপ্টার-মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া এবং বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির নির্দেশ দেওয়ার। রায় ঘোষণার মুহূর্তে আদালতে নিহতদের পরিবার কান্না ও করতালিতে প্রতিক্রিয়া জানায়।

ভারত এখনো তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে কি না—তা অনিশ্চিত। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে ফেরত না-ও পাঠানো যেতে পারে। ভারতীয় কূটনীতিকদের মতে, হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগকে ভারতের আদালত রাজনৈতিক ধরনেই দেখতে পারে। তার সামনে এখনো আপিলের সুযোগ—দেশের সুপ্রিম কোর্ট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত।

বাংলাদেশ meanwhile এক কঠিন রাজনৈতিক মোড়ের সামনে দাঁড়িয়ে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় হাসিনার রায় ও সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ প্রশ্ন রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত। নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে চলছে রাজনৈতিক বিভেদ নিরসনের চেষ্টা। বিএনপি ও অন্যান্য দল নতুন সুযোগ খুঁজছে। প্রশ্ন এখন—হাসিনার পতন কি অতীতের এক দমনময় যুগের সমাপ্তি, নাকি আরও অস্থিতিশীল সময়ের সূচনা?