ছিলেন বাদশা, তবুও জীবিকা নির্বাহ করতেন নিজ উপার্জনে: নবী দাউদ (আ.)

নিজস্ব প্রতিবেদন
হজরত দাউদ (আ.) ছিলেন একাধারে আল্লাহর নবী, ন্যায়পরায়ণ শাসক ও পরিশ্রমী মানুষ। আল্লাহ তায়ালা তাকে নবুয়ত দান করার পাশাপাশি পবিত্র কিতাব জাবুর প্রদান করেন এবং বিশেষ কিছু গুণে ভূষিত করেন, যা তাকে ইতিহাসে অনন্য করে তুলেছে। তিনি সুমধুর কণ্ঠস্বরের অধিকারী ছিলেন।
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, দাউদ (আ.) আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হলে মানুষ, পাখি এমনকি প্রকৃতিও যেন তার সঙ্গে তাসবিহ পাঠে অংশ নিত। এই অসাধারণ কণ্ঠের প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে আজও অনেক সংস্কৃতিতে সুন্দর কণ্ঠস্বরকে ‘দাউদি সুর’ বলা হয়।
আধ্যাত্মিক গুণের পাশাপাশি দাউদ (আ.) ছিলেন বাস্তব জীবনে দক্ষ এক কর্মী। আল্লাহ তায়ালা তাকে লোহা নরম করার বিশেষ ক্ষমতা দেন। এর মাধ্যমে তিনি বর্ম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরি করতেন, যা তার সম্প্রদায়কে শত্রুর আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিত। এভাবেই তিনি ধাতুশিল্পের একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত হন।
তিনি দিনের বেলায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন এবং রাতে নিজ হাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। শ্রমের মাধ্যমে উপার্জনের এই দৃষ্টান্ত ইসলামে আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীলতার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে।
কোরআনে বর্ণিত নবী দাউদ (আ.)-এর জীবন নেতৃত্ব, ইবাদত ও পরিশ্রমের এক অনন্য সমন্বয়। তার জীবনী প্রমাণ করে, দায়িত্বশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ প্রকৃত মর্যাদা অর্জন করতে পারে।

Nusrat Jahan
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.











