মাদুরোকে তুলে নিতে ট্রাম্পকে সাহায্য করা সেই ‘গাদ্দার’ আসলে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদন
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক অভিযানে আটক করার ঘটনাকে ঘিরে দেশটির ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা সরকারি বাসভবন থেকে অল্প সময়ের মধ্যে তাকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় শুরু থেকেই ভেতরের সহায়তার বিষয়টি সামনে আসে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি নিয়মিতভাবে তার অবস্থান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে সরবরাহ করছিলেন। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না পাওয়ায় রহস্য আরও গভীর হয়। পরবর্তীতে আরেকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, মাদুরো গ্রেপ্তারের আগেই ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছিল ট্রাম্প প্রশাসন, যা অভিযানের পরও অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র কাবেলোকে সতর্ক করেছিল যেন তিনি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন না চালান। গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশের ওপর কাবেলোর প্রভাব থাকায় মাদুরো অপসারণের পর দেশটির স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে মাদক পাচার মামলায় মাদুরো আটক হয়েছেন, সেই মামলায় কাবেলোর নাম থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা—কাবেলো সক্রিয় হলে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান দুর্বল হবে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে কাবেলোকে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয়। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা এবং দমননীতির অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা তল্লাশি কমা ও রাজনৈতিক বন্দিমুক্তির ঘোষণায় নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত দেশটির স্থিতিশীলতা ও তেলসম্পদের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র কাবেলোর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করলেও ভবিষ্যতে এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

Siam Islam
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










