গাজায় পুলিশ বাহিনী গড়তে মিসরে শত শত ফিলিস্তিনিকে প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদন
মিসর গাজা উপত্যকার জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো গঠনে শত শত ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে চলা এ কর্মসূচির লক্ষ্য—গাজায় একটি ঐক্যবদ্ধ, দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, গত আগস্টে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফার সঙ্গে বৈঠকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। প্রথম ধাপে পাঁচ শতাধিক সদস্য মার্চে কায়রোতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন ব্যাচেও কয়েক শ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীরা সবাই গাজার বাসিন্দা এবং তাদের বেতন দেবে রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
প্রশিক্ষণে থাকা এক তরুণ পুলিশ সদস্য বলেন, তিনি আগামী শান্তিপূর্ণ গাজায় কাজ করতে আগ্রহী এবং চান একটি বিদেশি প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন নিরাপত্তা বাহিনী। আরেক কর্মকর্তা জানান, তারা আধুনিক অপারেশনাল দক্ষতা ও সীমান্ত নজরদারির নতুন প্রযুক্তি শিখছেন। প্রশিক্ষণে পিএলও’র ভূমিকা ও পূর্ণ সার্বভৌম একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নও গুরুত্ব পায়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াদ হাব আল-রীহকে মিসরের সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এর আগেও মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ফাতাহসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী গাজায় প্রায় ১০ হাজার সদস্যের যৌথ পুলিশ বাহিনী গঠনে সম্মত হয়, যা একটি টেকনোক্র্যাট কমিটির তত্ত্বাবধানে চলবে।
হামাস জানায়, গাজা শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ তাদের উদ্দেশ্য নয়; তবে তারা রাজনৈতিক পরিসর ছাড়ছে না। সংগঠনটি বলছে, অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে সেটি অবশ্যই সর্বসম্মত জাতীয় সিদ্ধান্তের অংশ হতে হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের চলমান নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচিও গাজায় ভবিষ্যৎ পুলিশ বাহিনী গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। ইইউ পশ্চিম তীরে যেভাবে প্রশিক্ষণ মিশন পরিচালনা করছে, সে ধারায় গাজাতেও তিন হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে।

Siam Islam
© 2026 Daily Destiny. All rights reserved.










