ইসরায়েলের হামলা ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে। আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ইসরায়েলের ওপর গণহত্যার অভিযোগ তুলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করার দাবি জানায়।

গাজায় হতাহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে প্রথম আলোড়ন ওঠে ড্রোন হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায়।

প্রধান শহরগুলোতে বিক্ষোভ

প্যারিসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে ‘গাজা তুমি একা নও’ স্লোগানে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীরা বলেন, ন্যায়বিচার থেকে বিশ্ব এ মুহূর্তে অনেক দূরে, অথচ সাধারণ মানুষই সত্য বুঝতে পারে—ক্ষমতাধররা পারে না।
লন্ডনে আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেয়। তারা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনে বিচারযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করে।
রোমে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ ও জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ অংশ নেন; বিশাল জনসমাগমের সম্ভাবনা আগেই জানিয়েছিল স্থানীয় গণমাধ্যম।

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন

যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পরেও ইসরায়েল অন্তত ৫০০ বার ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ৩৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৮৮৯ জন আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, লাগাতার বেসামরিক মৃত্যু, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক ত্রাণে বাধা—কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আল জাজিরার গাজা প্রতিনিধি হিন্দ খাদরি জানান, সংকট এতটাই তীব্র যে তাঁবুতে থাকা মানুষেরা জীবনের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

এর আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলা ও সহায়তা আটকে রাখা মূলত ‘গণহত্যামূলক কার্যক্রম’ অব্যাহত রাখারই ইঙ্গিত দেয়।